রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩

তাজউদ্দীন আহমদঃ পর্দার অন্তরালের নায়ক




দীর্ঘ পথ শ্রমে ক্লান্ত। সীমান্ত থেকে সামান্য দূরে বৃটিশ আমলে তৈরি কালভার্টের উপর শরীর এলিয়ে দেন। তাঁর অবসন্ন চোখের পাতায় নেমে আসতে চায় রাজ্যের ঘুম। না, তিনি ঘুমিয়ে পড়েননি। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে তো চলবেনা। দেশ স্বাধীন করতে, স্বাধীন দেশকে ভূমিষ্ঠ করাতে তিনি তো নিজেই ধাত্রী। তাঁর চোখে তো ঘুম শোভা পায়না। তাঁর ভাষায়, 'আমি সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা হলো : একটি স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনার জন্য কাজ শুরু করা।' (তাজউদ্দীন আহমদ-ইতিহাসের পাতা থেকে। পৃষ্ঠা-২৯১)।”  
হ্যাঁ, আমি তাজউদ্দীন আহমদের কথা বলছি। আমি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কথা বলছি। আমি একজন মহাবিপ্লবী স্বপ্নদ্রষ্টার কথা বলছি। আমি একজন অকুতোভয় নেতার কথা বলছি। মূলত তার উদ্যোগেই ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল। সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক অনন্য পদক্ষেপ। এই সরকারের সুযোগ্য নেতৃত্বেই পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় নতুন এক বিস্ময়ের, যার নাম বাংলাদেশ। অতএব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশের জন্মের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছেন তাজউদ্দীন আহমদযতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন এই মহান মানুষটি।    
আজ তাজউদ্দীন আহমদের জীবনী লিখব না। সেই গল্প না হয় অন্যকোন দিনের জন্য তোলা থাকুক। আজ উনার জীবনের কিছু মুহূর্তের কথা বলব, কিছু খন্ডচিত্র তোলে ধরার চেষ্টা করব। এথেকেই বোঝা যাবে কত মহান ছিলেন এই মানুষটি।
১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ কে প্রধানমন্ত্রী করে গঠন করা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহন শেষ হল
মেহেরপুরের বদ্যিনাথ তলার আম্রকাননে এবার ভারতে প্রবেশের পালা। সেখান থেকেই আপাতত রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এই সরকার। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়া ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান তাজউদ্দীন আহমদ। কারণ এতে বাংলাদেশের মর্যাদাহানি হবে। অবশেষে ভারত সরকার যথাযথ মর্যাদা সহকারে গার্ড অব অনার দিয়েই বরণ করে নেয় নবগঠিত  বাংলাদেশ সরকারকে। দেশের মর্যাদা প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন এমনি আপোষহীন।   
১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের। এই বৈঠকে উপস্থিত হতে বেশ কিছুক্ষন দেরি হয়েছিল তাজউদ্দীন আহমদের। এর কারণ ছিল বাইরে পড়ে যাওয়ার মত তাঁর একমাত্র শার্টটি উনি ধুয়ে দিয়েছিলেন এবং এটি শুকাতে দেরি হয়েছিল। এতোটাই সাধাসিধে ছিল উনার ব্যক্তিজীবন। ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে উনি থাকতেন
৮নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিস কক্ষের পেছনে লাগোয়া একটি কক্ষেএকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উনি বিন্দুমাত্র অতিরিক্ত সুবিধাও গ্রহন করেননি এমনকি, ১৯৭১ সালের ২৬শে এপ্রিল উনি যখন সৈয়দ জোহরা খাতুল লিলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তখন অলংকার হিসেবে নববধূকে দিয়েছিলেন একটি বেলী ফুলের মালা। এর বেশি কিছু দেয়ার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। নিতান্ত সাধারণ পোশাক আর মোটা ফ্রেমের চশমা পরা এই অসাধারণ মানুষটির জীবনে শৌখিনতা বা বিলাস বলতে যেটুকু ছিল তা তাঁর ভাষায়- 'আমার আর কিছু না থাক চুল আঁচড়াবার বিলাস আছে। হোক সামান্য, তবুতো বিলাস।'(তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি ১ম খন্ড) একজন রাজনৈতিক নেতার সাধাসিধে জীবন যাপনের এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসেই বিরল।    
২৫শে মার্চের কালোরাত্রির পর ভারতে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে তাজউদ্দীন আহমদ পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে যেতে পারেননি। স্ত্রীর উদ্দেশ্যে উনি একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন যাতে লিখা ছিল, “সাড়ে সাত কোটি মানুষের সাথে মিশে যেও”এমনি দেশদরদী ছিলেন এই মানুষটি যার কাছে পরিবার পরিজনের চাইতেও দেশের স্বার্থ ছিল শত সহস্রগুণ বড়।   
ইয়াহিয়া-ভুট্টোর সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি আলোচনায় তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন ফাইলপত্র নিয়ে নিয়মিত হাজির হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী, যিনি তাঁর দাবির ব্যাপারে সবসময়ই থাকতেন অনড়। ইয়াহিয়া খানও তাজউদ্দীনকে ভয় করতেন। কারণ আলোচনার টেবিলে তিনি ছিলেন খুবই কঠোর, কোনো ছিটেফোঁটা আবেগও তাঁর মাঝে কাজ করত না। দূরদর্শী এই নেতা ছিলেন জাতির পিতার চরম আস্থাভাজন। তাঁর প্রতিটি মতামতকেই জাতির জনক যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বঙ্গবন্ধু পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট যে দলীয় হাই কমান্ড গঠন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন তাঁর অন্যতম সদস্য। জাতির পিতার এই আস্থার প্রতিদান উনি দিয়ে গেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। কর্মময় জীবনে উনি কখনোই নিজ কৃতিত্বের দাবি করেননিকর্তব্য বিবেচনা করে নিঃস্বার্থভাবে, একাগ্রচিত্তে কাজ করে গেছেন। বলেছেন, “মুছে যাক আমার নাম কিন্তু বেঁচে থাক বাংলাদেশ।”  
আজ এই মহান নেতার জন্মদিন। আজ থেকে ৮৮ বছর আগে ১৯২৫ সালের ২৩শে জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের, গজারি বনের ছায়াঘেরা, ঢাকার অদূরে কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। ৮৮তম জন্মদিনের প্রাক্কালে এই মহান নেতার প্রতি রইল শত সহস্র সালাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী।

হে মহান নেতা, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে না ফেরার দেশে অনেক ভালো আছেন আপনি। সেখান থেকে আমাদের জন্য শুধু দোয়া করবেন, আমরা যেন আপনার আদর্শ বুকে ধারণ করে নিঃস্বার্থভাবে এই দেশের জন্য কাজ করে যেতে পারি। এই দুখী বাংলাকে আক্ষরিক অর্থেই সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারি। নিশ্চিতভাবেই জানি এটা করতে পারলে আপনার থেকে বেশি খুশি খুব বেশি কেউ হবে না।






সামনে আসছে শুভদিন, তারেক চুরার সালাম নিন

বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামের বিম্পি শাখার নায়েবে আমীর রাজাকার পুত্র ফখা ইবনে চখা বিলেতে দেশের একমাত্র এইটপাশ প্রধানমন্ত্রী গোলাপী বিবির বড় ছেলে খাম্বা তারেক ওরফে বড় গণতন্ত্রের সাথে জরুরী বৈঠক শেষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই উক্তি করেন।
তিনি বলেন, বাকশালী সরকার চুরি চামারির দায়ে বড় গণতন্ত্রকে দেশ যাইতে দিতেসে না। তাই বলিয়া কি আমাদের রাজনীতি থামিয়া থাকিবে? আমাদের প্রাণের সুহৃদ জামায়তের প্রধান কার্যালয়ও তো ফাকিস্তানে
তারা কি দেশে রাজনীতি করিতেসে না?  তাই আমরাও বিলেতে তারেকের বিলাস বহুল বাস ভবনেই  আমাদের কার্যালয় স্থাপন করিলাম। এইটা হইল হাওয়া ভবন ভারসন টু। এইখান থাইকাই তারেক সাহেব আপাতত  রাজনীতি করিবেন। আমি আজ প্রায় সাড়ে চারশ জনের নামের লিস্টি তারেক সাহেবের দরবারে হাজির করিয়াছি। এর মধ্য থাইকাই সামনের নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রার্থীদের নমুনেশন দেয়া হইবে। এরা সকলেই অনেক টেকাটুকার মালিক। অতএব টেকাটুকা নিয়া তারেকের আর চিন্তা নাই।
কিসের ভিত্তিতে আপনারা নমুনেশন দিবেন?  সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ফখা বলেন, নমুনেশন আমরা ফ্রীতেই দিব। তারেক ভাইকে খালি পঞ্চাশ কোটি টেকা হাদিয়া দিতে হইবে। এইটারে অন্য কিছু মনে কইরেন না। বুঝেনই তো। টাকা লিস্টির সবার কাছ থাইকাই নেয়া হইবে, এমনকি বাইরের কেউ দিতে চাইলে তার কাছ থাইকাও নেয়া হইবে। টাকা নিতে তারেকের কুনু আপত্তি নাই। টাকা নিয়াও যাদের নমুনেশন দেয়া যাইবে না ক্ষমতায় গেলে তারেক তাদেরকে দেখবেন।   
আপনারা না তত্তাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না তাইলে নমুনেশন নিয়া দৌড়াইতেসেন কেন ? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ফখা বলেন, পরীক্ষা দিব না বলিয়া বই কিনিতে পারিব না এইডা কেমুন কথা? তাছাড়া  জানেনই তো, রতনে রতন চিনে, শুয়রে চিনে কচু আর তারেক চিনে টেকানমুনেশনের টিকেট বেচিয়া টেকাটুকা   কামাইয়ের এই সুযোগ তারেক কুনুভাবেই হাতছাড়া করিতে রাজি না।   
আপনার নমুনেশনের কি অবস্থা? সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফখা। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, কি আর কমু দুঃখের কথা আমারও যে মনে ব্যাথা। দলের জন্য আমি এত কিছু করিলাম, বাকশালি পুলিশের লাত্থি গুতা খাইলাম, জেল খাটিলাম তবুও আমার মাফ নাই। তারেক আমার কাছেও পঞ্চাশ কুটি দাবি করিয়া বসেছে। অনেক হাতে পায়ে ধরিয়া টেন পারসেন্ট কমাইয়া অবশেষে পঁয়তাল্লিশ কুটিতে রফা হইসে।  তারেক পোলাডা টেন পারসেন্ট ছাড়া কিছু বুঝে না। সমস্যা নাই। ক্ষমতায় গিয়া সব সুদে আসলে উসুল করিয়া লইব।
এরপরই তিনি বলেন,
সামনে আসছে শুভ দিন
তারকে চুরার সালাম নিন
পঞ্চাশ কুটি দিয়া দিন
সংসদের টিকেট নিয়া নিন।।

মুজাহীদের ফাঁসির রায় এবং একটি আঁতাতের গল্প




জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল, আলবদর বাহিনীর প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধী আলী আহসান মুজাহীদের ফাঁসির রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। জাতি হয়েছে কলঙ্কমুক্ত এবং উদ্বেলিতস্বর্গলোকে থেকেও নিশ্চয়ই শান্তি পাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমি, বদি, আজাদের আত্মা। শান্তি পাচ্ছে সুরকার আলতাফ মাহমুদের আত্মা, শান্তি পাচ্ছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আত্মা।  
আলী আহসান মুজাহীদের বিরুদ্ধে আনীত ৭ টি অভিযোগের ৫ টিই সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন রাস্ট্রপক্ষের প্রসেকিউটরবৃন্দ। তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় আসামী পক্ষ আপীল করলেও রায়ের কোন হেরফের হবে নাআবুল কালাম আজাদ, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং কামরুজ্জামান এর সাথে আলী আহসান  মুজাহীদেরও ফাঁসির দড়িতে ঝোলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমাদের ধৈর্য ধারন করতে হবে। কারন বিচারের প্রক্রিয়া একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চলে। আবেগ দিয়ে চলে না। ধর তক্তা, মার পেরেক টাইপ বিচার একমাত্র  জলপাই রঙের পোশাক ধারীদের পক্ষেই করা সম্ভব ( জিয়াউর রহমান যেভাবে কর্নেল তাহেরের বিচার করেছিলেন )। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন আদালতে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল নিরলসভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাতে তার প্রতি আমাদের সার্বিক নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাওয়াই উচিৎএমন কোন মন্তব্য বা কর্মসূচী কখনোই দেয়া উচিত নয়, যা এই ট্রাইবুন্যালকেই বিতর্কিত করে। কারণ এই ট্রাইবুন্যাল আমাদের অনেক আশা ভরসার প্রতীক, জাতির কলঙ্ক মোচনের হাতিয়ার।  
গত ১৫ই জুলাই গোলাম আজমের রায়ের পর অনেকেই অসন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন। সরকার তথা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ এনেছেন। তাদের উদ্দেশ্য বলছি, একবার কি ভেবে দেখছেন যে গোলাম আজমের ক্ষেত্রে আতাত করে আওয়ামীলীগের লাভ টা কি? আওয়ামীলীগ যদি আতাত করতো তাহলে চল্লিশ বছর পর  মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই শুরু হত না, আওয়ামীলীগ ছাড়া আর কেউ তো এই বিচারের নুন্যতম উদ্যোগও নেয়নিআর জামায়াতের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে যদি দেখেন, জামায়াতের প্রথম তিনজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি কে যদি বাছাই করা হয় তারা হবে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহীদী এবং তৃতীয় জন মীর কাশেম আলি। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর দেশব্যাপী একটা অনুসারী গ্রুপ আছে, শিবিরও তাকে তাত্ত্বিক নেতা হিসাবে সম্মান করে। আলী আহসান মুজাহীদীর সাংগঠনিক দক্ষতা জামায়াতের অন্য যে কারও থেকে বেশি। আর মীর কাশেম আলীর আছে অঢেল অর্থ, সে জামাতের মূল অর্থ যোগানদাতাঅতএব জামায়াত এই  তিনজনকে বাচানোর জন্যই সর্বোচ্চ চেস্টা করেছে এবং করবে। যেখানে সাঈদী এবং মুজাহীদের মত জামাতের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফাঁসী  হয়েছে সেখানে আপাত অথর্ব নব্বই বছরের বৃদ্ধ গোলাম আজমের ক্ষেত্রে আতাত হয়েছে- এটা নিতান্তই হাস্যকর একটি কথা এই ধরণের আঁতাত তো জামায়াতই করবে না, যেখানে তাদের কোন লাভ নেই। অতএব, এক ধরনের হাইপোথেটিকাল আঁতাতের গন্ধ যারা খোঁজে বের করার চেস্টা করছে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কেই আমার মনে প্রশ্ন জাগে?   
অনেকে বলছেন রায় হয়েছে কিন্তু কার্যকর হবে না। একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে চাই। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল গঠিত হওয়ার আগেও অনেকে বলেছে যে আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধের বিচারই করবে না। যখন ট্রাইবুন্যাল গঠিত হল তখন অনেকে বলেছে যে অপরাধীরা গ্রেফতার হবেনা বা বিচার শুরু হবেনা। যখন একে একে সব অপরাধী গ্রেফতার হল এবং বিচার শুরু হল তখন তারা বলেছে যে রায় হবেনা। আর এখন যখন একে একে রায় হচ্ছে এবং জাতি কলঙ্ক মোচনের শেষধাপে উন্নীত হচ্ছে তখন তারা বলছে যে রায় কার্যকর হবেনা। আমার মনে হয় দুধের মাঝেও কাটা খোজে বেড়ানো তথাকথিত চেতনাধারী এই গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে দেশের কলংমোচন হোক এটাই চায় না। কলংকমোচন হয়ে গেলে তারা সমালোচনা করবে কিভাবে? এটাই যে তাদের একমাত্র কাজ।
এবার আসুন সবাইকে আঁতাতের গল্প বলে বেড়ানো গণজাগরণ মঞ্চের বর্তমান অবস্থাটা একটু পর্যালোচনা করে  দেখা যাক। এদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের আপামর জনসাধারণ এই মঞ্চকে তাদের মনের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছিল। কিন্তু মানুষের সেই আবেগ নিয়ে খেলা করেছে এই মঞ্চের স্বঘোষিত নেতৃবৃন্দরা। তারা একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত এবং কর্মসূচী দিয়ে এই মঞ্চকে হাস্যস্পদ করে তুলেছে সবার কাছে। ভাবতে অবাক লাগে কতটুকু নির্বোধ হলে এরা জামায়াতের সাথে একই দিনে হরতাল কর্মসূচী গ্রহন করতে পারে। জামাত শিবিরের মত গাড়ি ভাংচুর করতে পারে, যে পুলিশ দিনের পর দিন তাদের পাহারা দিয়েছে তাদের গায়ে হাত তুলতে পারে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধেও এরা শ্লোগান দিয়েছে আওয়ামীলীগের সরকার, রাজাকারের পাহারাদার অথচ এই আওয়ামীলীগ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার আর কেউ করেনি এবং করবেও না। কোথায় ছিল এই চেতনা ব্যাবসায়ীরা যখন রাজাকার দের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়া হয়েছিল? তখন তারা ছিল নিশ্চুপ। অথচ যে আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করছে সেই আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আন্দোলন করে তার বিরুদ্ধেই শ্লোগান দেয়া হচ্ছে। সতিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই চেতনার আস্ফালন। এই চেতনা ব্যাবসায়ীদের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু এটুকুই বলতে চাই অবিলম্বে গণজাগরণ মঞ্চ নামক ব্যানার ব্যাবহার বন্ধ করা উচিৎ। কারন, এখন মানুষের প্রত্যাশার সাথে এর কাজের বিন্দুমাত্র মিল খোজে পাওয়া যায়না এটা হয়ে উঠেছে কিছু মানুষের ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্ল্যাটফর্ম।    

কিসের আঁতাত, কোথায় আঁতাত ??




রাজাকার শিরোমণি গোলাম আজমের মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় হয়েছে গত ১৫ই জুলাইনা, প্রত্যাশিত বিচার আমরা পাইনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ঘৃণ্য নরপশুর ৫ ধরণের ৬১ টি অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও মহামান্য আদালত রায় দিয়েছেন ৯০ বছর কারাদন্ড। বিবেচনায় নেয়া হয়েছে আসামীর বয়সকে। অথচ দেশবিরোধীদের আইকন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড খ্যাত গোলাম আজমের সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসির রায়ই শুনতে চেয়েছিল দেশপ্রেমী জনগণ এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবে রাস্ট্রপক্ষ। আশা করি আপীলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে এই দেশদ্রোহী পাকি দোসরের।  
এই রায়কে সরকার তথা আওয়ামীলীগের আঁতাত হিসেবে দেখছেন অনেকে। ভাবছেন নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার জন্যই গোলাম আজমকে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচানো হয়েছে। কোন যুক্তিতে তার এটা ভাবছেন তা আমার বোধগম্য হচ্ছে নানিজের জীবন বিপন্ন করে জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির কলঙ্ক মোচনের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। এই লক্ষ্যে গঠন করেছেন শক্তিশালী ট্রাইবুন্যাল যা স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছেন প্রসিকিউটরদের। তাদের কাজ ছিল অপরাধ প্রমাণ করা এবং তা তারা করতেও পেরেছেন। রায়  দিয়েছেন বিচারকরা এবং কিসের প্রেক্ষিতে দিয়েছেন তাও উল্লেখ করা আছে রায়ে। তাহলে আওয়ামীলীগ আঁতাত করলটা কোথায়? প্রসিকিউটররা যদি অপরাধ প্রমানে ব্যর্থ হতেন তাহলে সরকারের দোষ দেয়া যেত যে তারা যোগ্য প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়নি। কিন্তু সেটা তো হয়নি। আগের চারটি রায়ের মত গোলাম আজমের ক্ষেত্রেও রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সন্দেহাতীত ভাবে অপরাধ প্রমানে সক্ষম হয়েছেন। তাহলে সরকার বা আওয়ামীলীগের দোষ কোথায়? আমরা কেন ভুলে  যাচ্ছি আদালত সরকারের কথায় চলে না, আবেগ দিয়েও চলে না। আদালত বিচার করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে। এই ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাহলে আওয়ামীলীগকে কেন বলির পাঠা বানানো হচ্ছে?
অনেকে বলছেন এই রায় তো আসলে ৯০ বছরের কারাদন্ড না, আগামী নির্বাচনের পরেই মুক্তি পেয়ে যাবে গোলাম আজম। তারমানে আপনারা ধরেই নিচ্ছেন আগামী নির্বাচনে জামাত-বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসবে। বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে শুধু মুক্তি কেন হয়ত পুরষ্কারও জোটে যেতে গোলাম আজমের কপালে
 এটা আমিও বিশ্বাস করি। রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা যেহেতু তারা তুলে দিতে পেরেছে অতএব যুদ্ধাপরাধীদের  তারা মুক্তি দিবে এটা নিশ্চিততবুও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে তো কিছু বলা হচ্ছে নানাস্তিক ট্যাগ দিয়ে এই  আওয়ামীলীগের যোগ্য প্রার্থীদেরকেই হারানো হয়েছে পাচ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। তবুও তো সরকার এই বিচারকাজ বন্ধ করেনি। তারপরও সবদোষ দেয়া হচ্ছে আওয়ামীলীগকেইআপনারা পারেনও ভাই, কি অদ্ভুত আপনাদের হিসাব-নিকাশ
মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতাই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছিলেন। ৭৫ এ নির্মম ভাবে উনি নিহত হওয়ার পর স্তব্ধ হয়ে যায় সে কাজ। এরপর সুদীর্ঘ তেত্রিশ বছর পর ২০০৮ সালে সেই বিচারের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন তারই যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দুই ধাপে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে আজ পর্যন্ত সাড়ে নয় বছর এর মত। বাকি বত্রিশ বছরই দেশ চালিয়েছে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী। কই, কেউ তো এই বিচার করেনি
নূন্যতম উদ্যোগ পর্যন্ত গ্রহন করেনি। উপরন্তু  নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে পুনর্বাসিত করেছে দেশবিরোধী জামাত চক্রকে তাদের আশীর্বাদ পেয়েই ফুলে ফেপে উঠেছে জামাত, দেশব্যাপী  বিস্তৃত করেছে তাদের কালো থাবা। আজ যারা আওয়ামীলীগ কে গালি  দিচ্ছেন, আঁতাত খুজে বেড়াচ্ছেন তারা কই ছিলেন এই বত্রিশ বছর? নাস্তিক অপবাদ সহ্য করেও এই সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ চালিয়ে  যাচ্ছে তবুও আপনাদের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হচ্ছে এই সরকারকেই, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামীলীগ কেইহাস্যকর ভাই আপনাদের যুক্তি, হাস্যকর আপনাদের চেতনার আস্ফালন।  
নির্বাচনী ইশতেহারে কথা বলবেন? আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদের নিরবাচনী ইশতেহারের ৫.১ ধারায় পরিষ্কার ভাবে বলা ছিল যে নির্বাচিত হলে মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করবেনএটা এই সরকার করেও যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তিন জনের ফাঁসি, একজনের যাবতজীবন কারাদণ্ড ও সর্বশেষ গোলাম আজমের ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ইশতেহারে কোথাও উল্লেখ ছিল না সরকার সবার ফাঁসি নিশ্চিত করবেকারণ সেটা বলা সম্ভবও না। সরকার শুধু বিচারের ব্যবস্থাই করে দিতে পারে। রায় কি হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ  নেই। করলে সেটা হিতে-বিপরীতই হবে।
অনেকে ন্যুরেমবারগ আদালতের উদাহরন টেনে বলবেন যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে নব্বই বছরের অধিক বয়সীকেও  ফাঁসি দেয়ার নজির আছে। একবার ভেবে দেখুন তো তখনকার প্রেক্ষাপট কি ছিল। নাৎসি বাহিনী তখন নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল জার্মানিতে, নাৎসিদের শেষ চিহ্নটুকুও ধুয়েমুছে ফেলা হয়েছিল ততদিনে
তারপর হয়েছিল সে বিচার। অথচ  আমাদের দেশে এখনো বহাল তবিয়্যতে রাজনীতি করছে জামাত, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করা বিএনপি তাদের মূল অংশীদার৭৫ পরবর্তী সময়ে তাদের শিকড় বিস্তার লাভ করেছে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক  অঙ্গনেও। এই বিচার করতে গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে অনেক দেশী ও আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করে যেতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের এই বিচার পর্যবেক্ষণ করছেন দেশ বিদেশের অনেকেই। সরকার যদি এর কাজে হস্তক্ষেপ করতে যেত তাহলে তা সবার কাছেই তা বিতর্কিত হত। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।    
আতাতের কথা বলছেন? ৯১ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামাতের সম্মিলিত আসন সংখ্যা বিএনপির থেকেও বেশি ছিল। চাইলেই আওয়ামীলীগ তখন আঁতাত করে সরকার গঠন করতে পারত
কিন্তু  জাতির পিতার কন্যা শেখ  হাসিনার রক্তে আপোষ বলে কোন কথা নেই। উনি তখন হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রীর গদি ছেড়ে দিয়েছিলেন, তবুও আঁতাত করেননি দেশবিরোধী জামাতের সাথে। তারপরও কারণে অকারণে  আঁতাত খুজে বেড়ান অনেকেই। কাদম্বিনী যেমন মরিয়া প্রমাণ করেছিল যে সে মরে নাই, তেমনি মনে হয় আওয়ামীলীগ কেঊ একবার আঁতাত করেই প্রমাণ করতে হবে যে আওয়ামীলীগ আগে কখনো আঁতাত করে নাই। এছাড়া অন্য কোন উপায় দেখি না। আরেকটা উপায় অবশ্য আছে। সবাই মিলে বিএনপি জামাত জোটকেই আগামীবার ক্ষমতায় নিয়ে আসা, তাহলে হয়তো খুব ভাল বিচার হবে তখন। এক দড়িতেই ফাঁসি দিয়ে দিবে অনেকের ! তবে কাদের ফাঁসিতে ঝুলাবে সেটা সময়ই বলবে। আর কিছু বলার নেই আমার   

আমাকে আওয়ামী দালাল বলে গালি দিয়ে লাভ নাই। আওয়ামী লীগের দালালী রক্তে মিশে আছে, উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া। কারণ এই দুখী বাংলার ভালো চাইতে হলে আওয়ামীলীগের দালালীই করতে হবে। এছাড়া অন্য কোন উপায় নাই।
Top of Form
Bottom of Form

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

দীপ নিয়ে দুঃখগাথা

গেল দীপ

by Aminul Hoque Polash (Notes) on Tuesday, July 2, 2013 at 7:21pm
 দীপ। নামের সাথে ব্যাক্তিত্বের আশ্চর্য মিল ছিল ছেলেটির। সবসময় নিজের চারপাশটা আলোকিত করে রাখত সে। কিন্তু সেই সদা হাস্যোজ্জল, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ছেলেটির জীবন প্রদীপ নিভে গেল অকালেই। নিভিয়ে দিল মৌলবাদী ঘৃণ্য অপশক্তি।
আরিফ রায়হান দীপ বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে, নিজের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে বুয়েট জীবন শুরু করেছিল ছেলেটি। প্রগতিমনা এই ছেলেটি অতি অল্প সময়েই আপন করে নিয়েছিল এই বুয়েটকে। বুয়েটও তাকে জড়িয়ে ছিল মায়ার বাঁধনে। অথচ কি অসময়েই সেই বাধনটি ছিঁড়ে গেল। সহপাঠী, সিনিয়র, জুনিয়র প্রত্যেকেরই অতি প্রিয় মানুষ ছিল সে। কেউ কখনো গোমড়া মুখে দেখে নি তাকে। দেশপ্রেমের দৃপ্ত চেতনা ছিল মনে। প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন হওয়ার আশা নিয়েই যোগ দিয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে। অতি অল্প সময়েই হয়ে উঠেছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সংগঠক। জামাত-শিবির ও মৌলবাদীদের দেশবিরোধী যেকোন কাজে সে হত প্রতিবাদমুখর। বুকভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যেত তাদের রুখে দেয়ার জন্য। ৫ই ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালেই শাহবাগে উপস্থিত হয় সে। নিজ হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছিল, “এই পথে আজ জীবন দিব, রক্তের বদলা ফাঁসি নেব”। অনেকেই মুখে চেতনার কথা বলতে পারে, কিন্তু কতজন পারে দীপের মত নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে? দীপরা তাই মরেও মরে না, মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে বেঁচে থাকে মানুষের মনের মণিকোঠায়।
৬ই এপ্রিল মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে বুয়েটের শহীদ স্মৃতি হলের ইমাম হলের ডাইনিং থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে যান নিয়ম বহির্ভূতভাবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে অবিচল দীপ ও তাঁর বন্ধুরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করে। তাদের দাবির মুখেই সাময়িক ভাবে অপসারণ করা হয় সে ইমামকে। দীপের প্রধান লক্ষ্যই ছিল বুয়েটকে মৌলবাদের হিংস্র ছোবল হতে রক্ষা করা। সে লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে কি চরম মূল্যই না দিতে হল তাকে। উক্ত ঘটনার জের ধরে গত ৯ই এপ্রিল বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলে আততায়ীর হাতে মারত্মকভাবে জখম হয় সে। চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আজন্মযোদ্ধা দীপ কখনোই লড়াই না করে হারতে শিখেনি। মৃত্যুও তাকে হারাতে পারেনি সহজে। সুদীর্ঘ ৮৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ ভোর ৪ টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
দীপকে নৃশংসভাবে আহত করা আততায়ী বুয়েটছাত্র মেজবাহ কে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হেফাজতে ইসলামের সমর্থক মেজবাহ এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে জবানবন্দীও দিয়েছে।

দীপরা জন্মযোদ্ধা। এরাই প্রকৃত বীর। এরাই সবসময় শুকরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করে দৃপ্তকন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানায়। এর জন্য চরম মুল্যটাও এদেরকেই দিতে হয়। তবুও এরা ভয় পায় না। এই অকুতোভয় দীপরা আছে বলেই এখনো টিকে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এদের জন্যই এখনো মৌলবাদের আখড়া হতে পারেনি এই সোনার বাংলা। কিন্তু আফসোস, এই রাষ্ট্র এই বীরদের ধরে রাখতে পারেনা। দীপের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে মাধ্যমেই এই রাষ্ট্র কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে।
এই সমাজ, এই রাষ্ট্রকে তুই ক্ষমা করে দিস দীপ। কাপুরুষ এই সমাজে তোদের মত সাহসীদের  আসলেই স্থান নেই। তবে এটুকু জেনে রাখিস তোকে আমরা কখনোই ভুলব না, ভুলতে পারবোনা। তুই আমাদের চেতনায় সবসময়ই জাগ্রত থাকবি শিখা অনির্বাণের মত, আকাশের তারা হয়ে মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামে আমাদের পথ দেখাবি নিরন্তর। সকলের আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবি আমাদের মাঝে।
সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই নিবেদন, আমাদের দীপকে তুমি তোমার সর্বচ্চ স্থানে ঠাই দিও। এই  জনমে সে তার যোগ্য মর্যাদা পায়নি। তুমি সেটা পুষিয়ে দিও।

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

শফী বয়ান

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ইসলামী মহাসম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর মাওলান মোহাম্মদ শফীর বক্তব্যের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হল। নারীদের ব্যাপারে উনাদের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে উনার বক্তব্যে। সম্মানিত মা-বোনেরা এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নেন এই ধর্ম ব্যাবসায়ীদের কথা মত আপনারাও সেই মধ্যযুগীয় সমাজে ফিরে যেতে চান কিনা? আর এই হেফাজত কেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে জামাত-বিএনপি গং। এরা ক্ষমতায় আসতে পারলে এদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের কি অবস্থা হবে তা ভেবেই গায়ে কাটা দিচ্ছে।

আল্লামা শফীর বক্তব্যঃ

“ আপনারা মহিলারা মার্কেট করতে যাবেন না। স্বামী আছে সন্তান আছে তাদের যাইতে বলবেন। আপনি কেন যাবেন? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা উনার আসবাব পত্র এগুলার হেফাজত করবেন। ছেলে সন্তান লালন পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনি বাইরে কেন যাবেন?

আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য? চাকরি তো অনেক করতেসেন। আপনি নিজে করতেসেন, আপনার বউ করতেসে,মেয়েরা করতেসে। কিন্তু কুলাইতে তো পারতেসেন না। খালি অভাব আর অভাব। আগের যুগে রোজগার করত একজন, স্বামী। সবাই মিইলা খাইত। এখন বরকত নাই। সবাই মিইলা এতো টাকা কামাইয়াও তো কুলাইতে পারতেসেন না। গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল ৭/৮ টায় যায়, রাত ১০/১২ টায়ও আসেনা। কোন পুরুষের সাথে ঘোরাফেরা করে তুমি তো জান না। কতজনের সাথে মত্তলা হচ্ছে আপনার মেয়ে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেসে, বরকত থাকবে কেমনে?

আপনারা মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করাইতেসেন। কেন করাইতেসেন? তাদের ক্লাস ফোর ফাইভ পর্যন্ত পড়াইবেন যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা পয়সার হিসাব রাখতে পারে। বেশি বেশি আপনার মেয়েকে স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়াইতেসেন,লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতেসেন। কিছুদিন পর আপনার মেয়ে, স্বামী একটা নিজে নিজে জোগাড় কইরা লাভ ম্যারেজ কোর্ট ম্যারেজ কইরা চইলা যাবে। আপনার কথা স্মরণ করবে না। মহিলাদের ক্লাসের সামনে বসানো হয়। পুরুষরা কি লেখাপড়া করবে? মেয়ে মানুষ হচ্ছে তেঁতুলের মত। ছোট্ট একটা ছেলে তেতুল খাইতেসে, তা দেখলে আপনার মুখ দিয়া লালা ঝরবে। তেতুল গাছের নিচ দিয়া আপনি হাইটা যান তাইলেও আপনার লালা ঝরবে। দোকানে তেঁতুল বিক্রি হইতে দেখলেও আপনার লালা ঝরবে। ঠিক তেমনি মহিলাদের দেখলে দিলের মাঝে লালা ঝরে। বিবাহ করতে মন চায়। লাভ ম্যারেজ কোর্ট ম্যারেজ করতে মন চায়। দিনরাত মেয়েদের সাথে পড়ালেখা করতেসেন, আপনারা দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে মেয়েদের সাথে চলাফেরা করতেসেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হন আপনার মনের মাঝে কু খেয়াল আইসা যাবে। এইটা মনের জেনা, দিলের জেনা। এইটা একসময় আসল জেনায় পরিণত হবে। কেউ যদি বলে মেয়ে মানুষ দেখলে আমার দিলের মাঝে লালা ঝরে না, তাহলে বলব তোমার ধ্বজভঙ্গ রোগ আছে। তোমার পুরুষত্ব নস্ট হয়া গেসে। তাই মহিলাদের দেখলে তোমার কু ভাব আসে না। "

(এর পরের অংশ চাটগাইয়া ভাষায়। মূল অংশটি তুলে ধরা হল)

"জন্মনিয়ন্ত্রণ কেন করেন? বার্থ কন্ট্রোল কেন করেন? বার্থ কন্ট্রোল হল পুরুষদের মরদ থাইকা খাসী কইরা ফেলা। মহিলাদের জন্মদানী সেলাই কইরা দেয়া। এরই নাম বার্থ কন্ট্রোল। বার্থ কন্ট্রোল করলেও ডেথ তো কন্ট্রোল করতে পারবা না। রিজিকের মালিক হচ্ছে আল্লাহ। খাওয়াইবো তো উনি। তুমি কেন বার্থ কন্ট্রোল করবা? বড় গুনাহের কাজ এইটা। পারলে চাইরটা পর্যন্ত বিবাহ করবা। খাওয়াইবো তো আল্লাহ। বার্থ কন্ট্রোল করবা না। এইটা বড় গুনাহের কাজ।”

ইউটিউব লিঙ্কঃ http://www.youtube.com/watch?v=R-cd6P-u4WY

জেগে উঠো আওয়ামীলীগ



  • নচিকেতার একটি গান আজ খুব মনে পড়ছে,

    " বিজয়ীরা বরাবর ভগবাণ এখানেতে
    পরাজিতরাই পাপী এখানে,
    রাম যদি হেরে যেত রামায়ণ লিখা হত
    রাবণ দেবতা হত সেখানে।
    কেন পথ নিয়ে মাথা ব্যাথা?
    জেতাটাই বড় কথা
    হেরে গেলেই শেম শেম
    ইটস এ গেম ইটস এ গেম। "

    জাতির পিতা তো অনেক আগেই বলে গিয়েছেন, "when you play with a gentleman play like a gentleman, but when you play with a bustard make sure you play like a bigger bustard otherwise you will lose."

    চারদিক থেকে সমালোচনার তীক্ষ্মবাণে জর্জরিত হচ্ছে আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। হ্যাঁ, অস্বীকার করবনা যে আমাদের কোন ভুল ত্রুটি নেই। কিন্তু আওয়ামীলীগের চরমতম শত্রুও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে ২০০১-২০০৬ এর চারদলীয় জোটের শাসনকালের তুলনায় অনেক অনেক গুণ ভালো আছে বর্তমান বাংলাদেশ। তারপরও হারতে হল পাচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। একজন চোরের কাছে হারতে হল একজন মুক্তিযোদ্ধার। এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছুই হতে পারে না। আসলে ভালো মানুষের মত খেলে আর লাভ নেই। ইটস টাইম টু প্লে রাফ এন্ড টাফ। আওয়ামীম লীগ সংগঠনটি ফিনিক্স পাখির মত। এর নিঃশেষ নেই। ৭৫ পরবর্তী ২১ বছরেও এই দলকে ধ্বংস করতে পারেনি শত চেস্টা করেও। নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে যাওয়ার মত লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী রয়েছে এ সংগঠনে । আমাদের ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। উই হ্যাভ টু ফাইট টিল দ্য লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং। কারণ আওয়ামীলীগ জিতলে একাই জেতে কিন্তু হারলে সমগ্র বাংলাদেশ হারে।
    চূড়ান্ত বিজয় আমাদের হবেই।
    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ।।